বেদ কেন সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ ?

( part 1)

বেদ শব্দটি “বিদ্” ধাতু থেকে নিষ্পন্ন। “বিদ্” ধাতুর অর্থ – জানা।সেইজন্য বেদ শব্দের ধাতুগত অর্থ – জ্ঞান বা বিদ্যা দুই প্রকার পরা এবং অপরা। অলৌকিক জ্ঞান – পরাবিদ্যা। জাগতিক বিষয় সম্বন্ধীয় যাবতীয় লৌকিক জ্ঞান – অপরা বিদ্যা। পরা ও অপরা এই দুই বিদ্যাই স্থান পেয়েছে সেই জন্য বেদকে সর্ব জ্ঞানের ভান্ডার বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বেদের বেদত্ব ওই পরাবিদ্যা বা ব্রহ্মবিদ্যা প্রকাশের জন্য।পরাবিদ্যাই শ্রেষ্ঠ বিদ্যা ।

“বিদ্‌” ধাতুর চারিপ্রকার অর্থ হয়

বেত্তি বেদ বিদ্‌ জ্ঞানে,বিন্তে বিদ্‌ বিচারণে।
বিদ্যতে বিদ্‌ সত্তায়াং, লাভে বিদন্তি বিন্দতে।।
এই চারিপ্রকার অর্থ হইতেছে – জানা, বিচার করা, অবস্থান করা ও লাভ করা। যাহা পাঠ করলে মানুষ সত্য জানিতে পারে, সত্য এবং অসত্যের বিচার করিতে পারে, প্রকৃত বিদ্বান হইতে পারে, প্রকৃত শান্তি এবং আনন্দ লাভ করিতে পারে, তাহার নাম বেদ। বেদ শব্দের দুই অর্থ – মুখ্য ও গৌণ। ইহার মুখ্য অর্থ হল জ্ঞান রাশি, আর গৌণ অর্থ হল শব্দরাশি। বৈদিক জ্ঞান রাশি আত্মপ্রকাশ করে বৈদিক শব্দরাশির সাহায্যে। বেদ ঈশ্বরীয় জ্ঞান যা সৃষ্টির প্রারম্ভে মানবের কল্যাণের জন্য দেওয়া হয়েছে।বেদ হলো বৈদিক সংস্কৃতির মূলাধার। এই সংসার রুপ সাগর পারের জন্য বেদ হলো নৌকারুপ।বেদে মনুষ্য জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান আছে।অজ্ঞানান্ধাকারে পতিত মানুষের জন্য বেদ প্রকাশস্তম্ভ। ভুল পথে গমনকারী লোকের জন্য বেদ সত্য মার্গ দেখায়। পথভ্রষ্টকে কর্তব্য জ্ঞান প্রদান করে। আধ্যাত্ম পথের পথিক এর জন্য প্রভু প্রাপ্তির সাধনার উপদেশ দেয়। সংক্ষেপে বেদ অমূল্য রত্ন ভান্ডার। বেদ মানবজাতির সর্বস্ব।

মহর্ষি অত্রি বলেছেন→
“নাস্তি বেদাত্ পরং শাস্ত্রম্।”(অত্রিস্মৃতি ১৫১)
অর্থাৎ বেদের চেয়ে বড়ো কোনো শাস্ত্র নেই।

মহর্ষি মনু লিখেছেন→
“য়োনধীত্য দ্বিজো বেদমন্যত্র কুরুতে শ্রমম্।
স জীবনত্রেব শুদ্রত্বমাশু গচ্ছতি সান্বয়ঃ।।”(মনুসংহিতা ২/১৬৮)

অর্থাৎ যে দ্বিজ(ব্রহ্মচারী/ব্রাহ্মণ) বেদ না পড়ে অন্যান্য শাস্ত্র পড়ে পরিশ্রম করে,সে জীবনাবস্থাতেই নিজের কুলসহিত শুদ্রে পরিনত হয়।

বেদের মহত্ব মহর্ষি মনু,মনুসংহিতাতে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন

“সর্বজ্ঞানময়ো হি সঃ।।”(মনুসংহিতা ২/৭)
অর্থাৎ বেদ সকল জ্ঞানের ভান্ডার।

বেদ কেন সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ? (part 2)

বেদের মহত্ব মহর্ষি মনু,মনুসংহিতাতে এটাও বলেছেন যে,

কোনো ব্রাহ্মণ যদি তপস্যা করতে চায় তাহলে সেই ব্রাহ্মণ যেন বেদ অভ্যাস করে,বেদ অভ্যাসই হলো ব্রাহ্মণের পরম তপস্যা।”(মনুসংহিতা ৬/৩৭)

মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন,

“যজ্ঞানাং তপসাঞ্চৈব শুভানাং চৈব কর্মণাম্।
বেদ এব দ্বিজাতীনাং নিঃশ্রেয়সকরঃ পরঃ।।”(যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি ১/৪০)

অর্থাৎ যজ্ঞের বিষয়ে,তপস্যার বিষয়ে,শুভ কর্মের জ্ঞানার্থ দ্বিজের জন্য বেদ পরম কল্যাণের সাধন।

অত্রি স্মৃতি শ্লোক ৩৫১→
“শ্রুতিঃ স্মৃতিশ্চ বিপ্রাণাং নয়নে দ্বে প্রকীর্তীতে।
কাণঃ স্যাদেকহীনোপি দ্বাভ্যামন্ধঃ প্রকীর্তীতঃ।।

অর্থাৎ→ শ্রুতি=বেদ এবং স্মৃতি- এই দুটিকে ব্রাহ্মণের চোখ বলা হয়েছে। যদি এই দুটির মধ্যে যে কোনো একটি না থাকে তবে সেই ব্রাহ্মণ কাণা বলে বিবেচিত হবে এবং দুটোই যদি না থাকে তবে সে অন্ধ বলে বিবেচিত হবে।

বৃহস্পতি স্মৃতিতে ৭৯তে বেদের প্রশংসা করা হয়েছে,যা নিম্নরূপ➨

“অধীত্য সর্ববেদান্বৈ সদ্দো দুঃখাত প্রমুচ্যতে।
পাবনং চরতে ধর্ম স্বর্গলোকে মহীয়তে‌।”

অর্থাৎ বেদের অধ্যায়ন করে মানুষ শীঘ্রই দুঃখ থেকে মুক্তি পায়,সে পবিত্র ধর্মের আচরন করে এবং স্বর্গলোকের মহিমা প্রাপ্ত হয়।

প্রাচীন সমস্ত স্মৃতিকার, দর্শন শাস্ত্রকার, উপনিষদকার তথা রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতির লেখকেরা এমনকি এমনকি পুরানকার রাও বেদকে ঈশ্বরীয় তথা স্বতঃ প্রমাণ এবং অন্য সমস্ত গ্রন্থকে পরতঃ প্রমাণ বলেছেন।
উদাহরণস্বরূপ মনু বলেছেন➨
“বেদোখিলো ধর্মমূলম্।”(মনুসংহিতা ২/৬)
অর্থাৎ বেদ হল হল ধর্মের মূল। ধর্মের বিষয়ে বেদ স্বতঃ প্রমাণ।

(part 3)

মনুসংহিতা ২/১৩ এ লেখা আছে➨
“ধর্ম জিজ্ঞাসমানানাং, প্রমাণং পরমং শ্রুতিঃ।।”
অর্থাৎ যে ধর্মের জ্ঞান প্রাপ্ত করতে চায় তাঁর জন্য পরম প্রমাণ বেদ।

এছাড়াও বলেছেন

“পিতৃদেবমনুষ্যাণাং বেদশ্বক্ষুঃ সনাতনম্। অশক্যং চাপ্রমেয়ং চ, বেদশাস্ত্রং ইতি স্থিতিঃ।।”(মনুসংহিতা ১২/৯৪)
“চাতুর্বণ্যং ত্রয়ো লোকা শ্চত্বারশ্চাশ্রমাঃ পৃথক্। ভূতং ভব্যং ভবিষ্যং চ, সর্বং বেদাত্প্রসিধ্যতি।।”(মনুসংহিতা ১২/৯৭)
“বিভর্তি সর্বভূতানি,বেদশাস্ত্রং সনাতনম্।তস্মাদেতত্পরং মন্যে যজ্জন্তোরস্য সাধনম।।”(মনুসংহিতা ১২/৯৯)

সারাংশ এটাই যে, বেদ পিতৃ, দেব, মনুষ্য সকলের জন্য সনাতন মার্গদর্শক চোখের সমান। বেদের মহিমা পূর্ণভাবে প্রতিপাদন করা খুবই কঠিন। চার বর্ণ, তিন লোক, চার আশ্রম, ভূত, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান বিষয়ক জ্ঞান বেদ থেকেই প্রসিদ্ধ হয়। সনাতন (নিত্য) বেদ শাস্ত্র সকল প্রাণীকে ধারণ করে এটাই সকল মানুষের জন্য ভবসাগর পারের সাধন।

শতপথ ব্রাহ্মণ তথা তদন্তর্গত বৃহদারণ্যক উপনিষদে স্পষ্ট বলা হয়েছে➨

“এতস্য বা মহতো ভূতস্য নিশ্বসিতমেতত্।
য়ত্ ঋগ্বেদো যজুর্বেদঃ সামবেদোথর্ববেদঃ।।”(বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪/৫/১১)

অর্থাৎ ঋকবেদ যজুর্বেদ সামবেদ এবং অথর্ববেদ সেই মহান পরমেশ্বরের নিঃশ্বাস স্বরূপ।
শতপথ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে

“স (প্রজাপতিঃ) শ্রান্তস্তেপানো ব্রহ্মৈব প্রথমমসৃজত ত্রয়ীমেব বিদ্দ্যাম্।।

অর্থাৎ প্রজাপতি পরমেশ্বর নিজের তপস্যা বা পূর্ব জ্ঞান দ্বারা বেদের নির্মাণ করেছেন যা ওই ত্রয়ীবিদ্যা নামে পরিচিত কেননা তাতে জ্ঞান কর্ম এবং উপাসনার প্রতিপাদন রয়েছে।
মুন্ডক উপনিষদে বেদ কে ঈশ্বরীয় জ্ঞান মানার স্পষ্ট প্রতিপাদন রয়েছে

“অগ্নির্মুর্ধা চক্ষুষী চন্দ্রসূর্যো দিশঃ শ্রোত্রে বাগ্বিবৃতাশ্চ বেদাঃ।।”(মুন্ডক উপনিষদ ২/১/৪)

অর্থাৎ সেই ঈশ্বরের মস্তক অগ্নি’র সমান, সূর্য এবং চন্দ্র যার চোখের সমান, দিক যার কানের তুল‍্য, বেদ যার বানী অর্থাৎ ঈশ্বরীয়।

(part 4)

তণ্ড‍্যয় ব্রাহ্মণ তথা তদন্তর্গত ছান্দোগ্য উপনিষদে ছন্দের দ্বারা বেদের মহিমা উপস্থাপন করা হয়েছে→

“দেবা বৈ মৃত্যোর্বিভ্যতস্ত্রয়ীং বিদ্যাং প্রাবিশন্ তে ছন্দোভিরচ্ছাদয়ন,য়দেভিরচ্ছাদয়ন,তচ্ছান্দসাং ছন্দস্ত্বম্।”(ছান্দোগ্য উপনিষদ ১/৪/২)

অনুবাদ→

দেবতারা (সত্যনিষ্ঠ বিদ্বানেরা) মৃত্যুর দ্বারা ভয়ে ভীত হয়ে ত্রয়ীবিদ্যা (জ্ঞান,কর্ম, উপাসনার প্রতিপাদনকারী বেদ) এর আশ্রয় নেয়। তাঁরা বেদ মন্ত্র দ্বারা নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে নেয় এবং এইজন্য ইহাকে ছন্দও বলা হয়।
মহাভারতে বেদের মহত্ব➨

মহাভারতে মহর্ষি বেদব্যাস বেদ কে নিত্য এবং ঈশ্বর কৃত বলেছেন এবং বেদ কে অর্থ শহিত অধ্যয়ন করার জন্যও বলেছেন।
“অনাদিনিধনা নিত্যা বাগূত্সৃষ্টা স্বয়ম্ভূবা।
আদৌ বেদময়ী দিব্যা য়তঃ সর্বাঃ প্রবৃত্তয়ঃ।।” (মহাভারত শান্তি পর্ব ১২/২৩২/২৪)

অনুবাদ→

সৃষ্টির আদিতে স্বয়ম্ভূ পরমাত্মা এই বেদ বাণী প্রকাশিত হয়েছিল যার না আদি আছে,না অন্ত,যা নিত্যনাশরহিত এবং দিব্য।যা থেকে জগতের সমস্ত প্রবৃত্তির প্রকাশ পেয়েছে।
এই অধ্যায়ে আরো বলা হয়েছে ➨

“নানারুপং চ ভূতানাং, কর্মণাং চ প্রবর্তনম্।
বেদশব্দেভ্য এবাদৌ,নির্মিতীনে স ঈশ্বরঃ।।
নামধেয়ানি চর্ষীণাং,য়াশ্চ বেদেষু দৃষ্টয়ঃ।

শর্বর্য়ন্তে সুজাতানাং,তান্যেবৈভ্যো দদাত্যজঃ।।”
(মহাভারত শান্তিপর্ব মোক্ষ ধর্মপর্ব ২৩২/২৫/২৭)

অনুবাদ→ ঈশ্বর বস্তুর নাম এবং কর্ম বেদের শব্দের দ্বারা নির্মাণ করেছেন।ঋষিদের নাম এবং জ্ঞান প্রলয়ের শেষে অর্থাৎ সৃষ্টির প্রারম্ভে বেদের দ্বারা করছেন। বেদের অর্থ সহিত অধ্যায়নের উপর জোর দিয়ে,

ব্যাসদেব বলেছেন→
“য়ো বেদে চ শাস্ত্রে চ, গ্ৰন্থধারণতত্পরঃ।
ন চ গ্ৰন্থার্য়তত্বজ্ঞঃ,তস্য তদ্ধারণং বৃথা।।
ভারং স বহতে তস্য গ্ৰন্থস্যার্থ ন বেত্তি য়ঃ।
য়স্তু গ্ৰন্থার্থতত্ত্বজ্ঞো নাস্য গ্ৰন্থাগমো বৃথা।।”
(মহাভারত শান্তি পর্ব মোক্ষ ধর্মপর্ব ৩০৫/১৩/১৪)

অনুবাদ→ যে কেবল বেদ পড়ে কিন্তু বেদের অর্থ এবং তত্ত্ব জানেনা, তাঁর এই প্রকার অধ্যায়ণ নিষ্ফল হয়ে যায়। অতএব সকলের উচিত বেদের অধ্যায়ণ অর্থ এবং তত্ত্বের সাথে করা।

এছাড়া মহাভারতে আরো বলা হয়েছে→

ঋষয়স্তপসা বেদানধ্যৈষন্ত দিবানিশম অনাদিনিধনা
বিদ্যা বাগৎসৃষ্টা স্বয়ম্ভুবা।।
(মহাঃ শান্তি পর্ব ২৩২।২৪)
.
অর্থাৎ মহর্ষিগণ তপোবলেই দিবানিশি বেদ অধ্যয়ন
করিয়া থাকেন। সৃষ্টির প্রথমে জগদীশ্বর আদি অন্ত শূন্য বেদ রূপী বিদ্যার সৃষ্টি করিয়াছেন ।

দ্বে ব্রহ্মণী বেদিতব্যে শব্দব্রহ্ম পরং চ যৎ।
শব্দব্রহ্মণি নিষ্পাতঃ পরং ব্রহ্মাধিগচ্ছতি।।
(মহাঃ শান্তি পর্ব ২৩২।৩০)
.
অর্থাৎ বেদ ও বেদ প্রতিপাদ্য পরব্রহ্ম উভয়ই পরিজ্ঞাত হওয়া আবশ্যক। যে ব্যক্তি বেদশাস্ত্র বিশেষরূপে অবগত হইতে পারেন , তিনিই অনায়াসে পরব্রহ্ম লাভে সমর্থ হন ।



নাবেদনিষ্ঠস্য জনস্য রাজন প্রদেয়মেতত্ পরমং ত্বয়্
ভবেত্। বিধিত্সমানায় বিবোধকারণং প্রবোধহেতোঃ
প্রণতস্য শাসনম্।।
(মহাঃ শান্তিঃ ৩০৮। ৩২)
.
যে মনুষ্য বেদে শ্রদ্ধা রাখে না, তাকে এই জ্ঞানের
উপদেশ দেওয়া উচিৎ নয়। যার বোধের জন্য অধিক পিপাসা তথা যে জিজ্ঞাসু শরণে আসে তিনিই শোনার অধিকারী।

দর্শন শাস্ত্রে বেদের মহত্ব

ন্যায়, বৈশেষিক,সাংখ্য,যোগ, মীমাংসা এবং বেদান্ত এই ছয় দর্শন শাস্ত্র যা গৌতম,কণাদ,কপিল, পতঞ্জলি,জৈমিনি এবং ব্যাসদেব রচিত। এই সমস্ত দর্শন শাস্ত্রে বেদের মহত্বের স্পষ্টততা স্বীকার করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ,
ন্যায় দর্শনে➣
“মন্ত্রায়ুর্বেদ প্রামাণ্যবচ্চ তত্প্রমাণ্যমাপ্তপ্রামাণ্যাত্ (২/১/৬৭)
সুত্রে পরম আপ্ত পরমেশ্বরের বাণী এবং অসত্য, পরস্পর বিরোধী এবং পুনরোক্তি দোষরহিত হওয়ায় বেদকে পরম প্রমাণ হিসেবে সিদ্ধ করা হয়েছে।

বৈশেষিক শাস্ত্রকার কণাদ মুনি➣
“তদ্ বচনাদাম্নায়স্য প্রামাণ্যম্।”(১০/১/৩)
এই সূত্রের দ্বারা পরমেশ্বরের বাণী হওয়ায় আম্নায় অর্থাৎ বেদকে প্রামাণ্য বলা হয়েছে।
আর একটি সূত্রে বলা হয়েছে-
“বুদ্ধিপূর্বা বাক্যকৃতির্বেদ।”(৬/১/১)
অর্থাৎ বেদ বাক্য রচনা বুদ্ধিপূর্বক। এখানে সৃষ্টিক্রম বিরুদ্ধ কোনো কথা নেই।অতএব ইহা ঈশ্বরীয় জ্ঞান।

সাংখ্য দর্শনে কপিল মুনি ➣
“শ্রুতি বিরোধাত্র কুতর্কাপসদস্যাত্মলাভঃ।”(৬/৩৪)
শ্রুতি বিরুদ্ধ কুতর্ককারীরা কখনোই আত্মজ্ঞান প্রাপ্ত হন না। এই সূত্রের মাধ্যমে সাংখ্যকার বেদের প্রামাণিকতা স্বীকার করেছেন।

এছাড়াও একটি সূত্রে বলা হয়েছে-
“ন পৌরুষেয়ত্বং তত্কর্তুঃ পুরুষস্যাভাবাত্।”(৫/৪৬)

অর্থাৎ-বেদ পৌরুষের নয়,কেনন বেদের রচয়িতা কোনো পুরুষ নয়।জীব অল্পজ্ঞ এবং অল্পশক্তি হওয়ায় সে সমস্ত বিদ্যার ভাণ্ডার বেদ রচনা করতে অসমর্থ।বেদ মনুষ্য রচনা না হওয়ায় বেদ অপৌরুষেয়।

আর একটি সূত্রে বলা হয়েছে➙
নিজশক্ত‍্যভিব্যক্তেঃ স্বতঃ প্রমাণ্যংম্।”(৫/৫১)
সূত্রের দ্বারা বেদকে ঈশ্বরীয় শক্তি থেকে অভিব্যক্ত(প্রকট) হওয়ায় স্বতঃ প্রমাণ মানা হয়েছে।

যোগদর্শনকার পতঞ্জলি মুনি➣

“তত্র নিরতিশয়ং সর্বজ্ঞ বীজম্”(যোগ ১/২৫)
সেই (ঈশ্বর)এর সর্বজ্ঞ হওয়া এতটাই নিমিত্ত যে তিনি ছাড়া আর কারোরই সেই ক্ষমতা নাই।
“স এষ পূর্বেমেষামপি গুরুঃ কালেনানবচ্ছেদাত্।”(যোগ ১/২৬)
ঈশ্বরকে এইভাবে সমস্ত জ্ঞানের স্তোত্র মেনে বলেছেন সেই(ঈশ্বর)যার কাল বিভাগ নেই, তিনি পূর্ব ঋষিদের ও গুরু।
অর্থাৎ তিনি জগতের প্রারম্ভে বেদরুপী জ্ঞান দিয়ে মানুষকে শিক্ষিত করেছেন। এই দর্শন এটাই সিদ্ধ করে যে,বেদ হলো ঈশ্বরীয় জ্ঞান। বেদজ্ঞান দান করায় পরমেশ্বর কে আদি গুরু মানা হয়েছে।

বেদান্ত শাস্ত্রের কর্তা ব্যাসদেব➣
“শাস্ত্র য়োনিত্বাত্” (১/১/৩) তে তথা “অতএব চ নিত্যত্বম্”(১/৩/২৯) ইত্যাদি সূত্রের দ্বারা পরমেশ্বরকে ঋগ্বেদাদি রুপ সর্ব জ্ঞানের কর্তা মেনে বেদের নিত্যতা প্রতিপাদন করা হয়েছে।“শাস্ত্রয়োনিত্বাত্”(১/১/৩)

উপরিউক্ত সূত্রের ভাষ্যে শঙ্করাচার্য লিখেছেন➟

“ঋগ্বেদেঃ শাস্ত্রস্যানেকবিদ্যা স্থানোপ্বৃংহিতস্য প্রদীপবত্ সর্বার্থাবধোতিনঃ সর্বজ্ঞকল্পস্য য়োনিঃ কারণং ব্রহ্ম। নহীদৃশস্য-র্গ্বেদাদি লক্ষণস্য সর্বজ্ঞগুণাচিতস্য সর্বজ্ঞাদন্যতঃ সংভবোস্তি।”
.
অর্থাৎ ঋগ্বেদাদি যে চার বেদ আছে যা অনেক বিদ্যার দ্বারা যুক্ত, সূর্যের সমান সমস্ত সত্য অর্থের প্রকাশ করে,যা সর্বজ্ঞত্বাদী গুণযুক্ত পরমেশ্বরের বাণী, কেননা সর্বজ্ঞ ব্রহ্ম ছাড়া কোনো জীব সর্বজ্ঞ গুণযুক্ত এই বেদকে তৈরি করতে পারে না।

Koushik Basak Koushik দাদার টাইমলাইন থেকে নেয়া