অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নীচে পাওয়া গেল মন্দিরের ৮৫টি স্তম্ভ আর মূর্তি

অযোধ্যায় যেই যায়গায় বাবরি মসজিদ বানানো হয়েছিল, সেখানে কি আগে হিন্দু মন্দির ছিল? সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আবার কিছু তথ্য পাওয়া গেল, যাতে প্রমানিত হয় যে ওই যায়গায় আগে হিন্দু মন্দির ছিল। ইংরেজ আমল থেকেই অনেকবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ওই যায়গায় হিন্দুদের পূজা করার অধিকার আছে, কারণ ওখানে আগে মন্দিরই ছিল। কিন্তু বারবার কোনো না কোনো কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়ে মামলা কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু এখন যেই প্রমান পাওয়া গেছে সেটাতে অনেকটাই পরিস্কার যে ওখানে আগে হিন্দু মন্দিরই ছিল।

অয্যোধ্যাতে দুইবার খনন করা হয়, দুইবারই প্রশ্ন একটাই ছিল যে মসজিদের নীচে মন্দির ছিল কি না? মন্দির ভেঙে মসজিদ বানানো হয়েছিল কি না? ১৯৭৭ সালে প্রথমবার খোদাই করা হয়, আর ২০০৩ সালে দ্বিতীয় বার খনন কাজ চালানো হয়। যখন প্রথমবার খোদাই হয়েছিল তখন ওই যায়গায় বাবরি মসজিদ ছিল, আর দ্বিতীয় বারের সময় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল আগেই।

৪০ বছর আগে অয্যোধ্যাতে খনন কার্জ চলার সময় ASI এর মুখ্য অফিসার ছিলেন বিবি লাল। সেই টিমে ASI এর অফিসার কেকে মহম্মদ ও ছিলেন। ASI এর টিম একটা দুটো না পুরো ১৪ টা স্তম্ভ পেয়েছিল। সব স্তম্ভই মন্দিরের ছিল, কিন্তু তারওপর মসজিদ বানানো হয়েছিল। কালো রঙয়ের ওই স্তম্ভের ওপর হিন্দু পূজা পদ্ধতির চিহ্ন ও ছিল। ওই পাথরের স্তম্ভে হিন্দু দেব দেবীর মূর্তিও খোদাই করা ছিল। কোনো মসজিদে হিন্দু দেব দেবীর মূর্তি থাকার মানে কি?

১৯৭৭ সালে মসজিদের বাইরে স্তম্ভের ভিতও পাওয়া যায়, সেটা একই লাইনে এবং একই দুরত্ব বরাবর ছিল। ওই রকমের পিলার বেস মন্দিরের মণ্ডপ বানানোর কাজে লাগে। যেহেতু সেই সময় বাবরি মসজিদ ছিল, তাই এটা দেখা যায়নি যে ওই পিলারের বেস কতদুর পর্যন্ত ছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে হাইকোর্ট এর আদেশে আবার খনন কাজ শুরু হয়।

সেইবার খনন কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেলেন ASI এর অফিসার বি আর মনি। ১৯৯২ সালে মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়ার ফলে সেইবার খনন সেই জায়গাতে হয় যেখানে আগে বাবরি মসজিদ ছিল। খনন কাজ শুরু হওয়ার সময় সবার আগে পিলার বেস পাওয়া যায়। ১৯৭৭ সালে ১০ টি বেস পাওয়া গেছিল, আর ২০০৩ সালে ৮৫ টি বেস। তারমানে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, মন্দির ভেঙেই মসজিদ হয়েছিল আর মন্দিরের স্তম্ভ ব্যাবহার করা হয়েছিল মসজিদে, এবং মন্ডপের স্তম্ভ ভেঙে ওই যায়গায় মাটিকে সমতল করা হয়েছিল।

News Courtesy: techtalks

Download Mahabharat